মস্তিষ্কের কতটা থাকলেই বাঁচা যায়?
মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে একটি প্রচলিত প্রশ্ন হলো—স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে আসলে মস্তিষ্কের কত শতাংশ প্রয়োজন? আমরা সাধারণত মনে করি, পুরো মস্তিষ্কই সবসময় সক্রিয় থাকে। তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের কিছু অংশ অচল থাকলেও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। কারণ, মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আঘাতের ধরন কী, কখন হয়েছে—এসব বিষয় নির্ধারণ করে একজন মানুষ কতটা স্বাভাবিক থাকতে পারবেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য অংশ সেই কাজ সামলে নিতে পারে। এ ঘটনাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি—অর্থাৎ মস্তিষ্কের নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
এমনই একটি উদাহরণ হলো ‘ইজি’ নামে এক নারী। একটি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা যায়, তার মস্তিষ্কের বাঁ দিকের টেম্পোরাল লোব পুরোপুরি অনুপস্থিত। সাধারণত এই অংশটি ভাষা বোঝা, শোনা এবং স্মৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবুও তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে, পড়তে এবং নতুন ভাষা শিখতে পারছিলেন।
Evelina Fedorenko এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা করে দেখেন, ইজির মস্তিষ্কের ডান দিকের অংশ বাঁ দিকের কাজগুলো করে নিচ্ছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে মানুষ মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ নিয়েও বেঁচে থাকতে পারে। গুরুতর মৃগী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্রোপচার—হেমিস্ফেরেক্টমি—তে মস্তিষ্কের এক পাশ কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।
William Bingaman এই ধরনের শত শত অপারেশন করেছেন, যেখানে অনেক রোগী পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।
তবে এ ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে সমান ফল পাওয়া যায় না। তাই মস্তিষ্কের কত শতাংশ প্রয়োজন—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা না থাকলেও বলা যায়, মানুষের মস্তিষ্ক অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম এবং বিস্ময়করভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!