Dark Mode
Image
  • Sunday, 19 April 2026
পেটেই কেন জমে চর্বি? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

পেটেই কেন জমে চর্বি? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

বর্তমান সময়ে ভুঁড়ি বা পেটের মেদ অনেকের জন্যই বড় দুশ্চিন্তার কারণ। দেখা যায়, শরীরের অন্য অংশ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও পেটের অংশটাই অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। কেন এমন হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আমাদের শরীর শক্তি পায় খাবার থেকে, যা ক্যালরি হিসেবে জমা থাকে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে এবং তা যথেষ্ট পরিমাণে খরচ না হলে শরীর অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বি হিসেবে জমা করে। আর এই জমা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ জায়গা হলো পেটের অংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের মেদ জমার পেছনে খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, চিনিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয়। ফলে ক্যালরি সহজে খরচ না হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে—বিশেষ করে পেটের আশপাশে।

তবে শুধু খাবার নয়, জীবনযাত্রার ধরনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ পেটের মেদ বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

বিজ্ঞানীরা পেটের মেদকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—ভিসারাল ফ্যাট এবং সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট। ভিসারাল ফ্যাট পেটের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমা হয় এবং এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট ত্বকের নিচে থাকে, যা বাইরে থেকে ধরা যায়।

পেটের অংশে চর্বি জমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কর্টিসল হরমোন, যা ‘স্ট্রেস হরমোন’ নামে পরিচিত। মানসিক চাপ বাড়লে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরকে নির্দেশ দেয় চর্বি পেটের কাছে জমা করতে।

এ ছাড়া জিনগত কারণও এখানে ভূমিকা রাখে। অনেকের ক্ষেত্রে পারিবারিক গঠন অনুযায়ী চর্বি পেটে জমার প্রবণতা বেশি থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেটের অংশে রক্ত চলাচল বেশি হওয়ায় শরীর দ্রুত শক্তি ব্যবহার করতে পারে এই জায়গা থেকে। ফলে শরীর ভবিষ্যতের প্রয়োজনে এখানে চর্বি জমিয়ে রাখাকে ‘সহজ’ মনে করে।

তবে সুখবর হলো—নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত মেদ কমানো সম্ভব। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই হতে পারে সুস্থ জীবনের বড় চাবিকাঠি।

Comment / Reply From