Dark Mode
Image
  • Thursday, 23 April 2026
অন্ধকারেও মানুষ খুঁজে পায় মশা—জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

অন্ধকারেও মানুষ খুঁজে পায় মশা—জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

রাতের নিস্তব্ধ অন্ধকারে হঠাৎ কানের কাছে ভোঁ ভোঁ শব্দ—মশার উপস্থিতি অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। আলো না থাকলেও মশা কীভাবে এত নিখুঁতভাবে মানুষকে খুঁজে পায়, তা নিয়ে কৌতূহল অনেকেরই। তবে এর পেছনে কোনো রহস্য নয়, বরং রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মশা মানুষকে শনাক্ত করতে একাধিক সংবেদনশীল সংকেত ব্যবহার করে—যেগুলো অন্ধকারেও সমান কার্যকর।

প্রথমত, মানুষের নিঃশ্বাস। আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। মশা এই গ্যাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দূর থেকেই তারা এই গ্যাসের উপস্থিতি টের পায় এবং সেই উৎসের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, শরীরের তাপমাত্রা। মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবেই উষ্ণ থাকে, যা মশা বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারে। অনেকটা ইনফ্রারেড সেন্সিংয়ের মতো এই ক্ষমতা তাদের অন্ধকারেও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, মানুষের শরীরের গন্ধ। আমাদের ত্বক থেকে নির্গত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান—যেমন ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ও ফ্যাটি অ্যাসিড—মশার কাছে একটি আলাদা ‘সিগনেচার’ তৈরি করে। এই গন্ধের ভিন্নতার কারণেই দেখা যায়, একই ঘরে থাকা সত্ত্বেও মশা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা দলবদ্ধভাবে শিকার করে না। প্রতিটি মশাই নিজস্ব সংবেদনশীল ক্ষমতা ব্যবহার করে আলাদাভাবে মানুষকে খুঁজে নেয়। তবে একই সংকেতের কারণে একাধিক মশা একই ব্যক্তির দিকে আকৃষ্ট হতে পারে।

এছাড়া মশার সক্রিয়তা রাতের বেলায় বেশি থাকে। তাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি রাতকে শিকারের উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারণ করে। রাতে পরিবেশ শান্ত থাকে এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকায় প্রতিরোধ কমে যায়—যা মশার জন্য সুযোগ তৈরি করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অন্ধকার আমাদের চোখে যতটা অদৃশ্য, মশার কাছে তা ততটাই ‘দৃশ্যমান’। নিঃশ্বাস, তাপ ও গন্ধ—এই তিনটি সংকেতই মশাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় নির্ভুলভাবে।

Comment / Reply From