Dark Mode
Image
  • Tuesday, 01 September 2026
চা-বিস্কুটে লুকিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চা-বিস্কুটে লুকিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

সকালের এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে দুই-তিনটি বিস্কুট—অনেকের কাছেই এটি দিনের স্বাভাবিক শুরু। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক চিকিৎসক ডা. সুমিত শর্মা জানান, দীর্ঘদিন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি একটি সাধারণ অভ্যাস লক্ষ্য করেছেন—অনেকেই প্রতিদিন সকালে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খান, অথচ এটিই ধীরে ধীরে শরীরের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কী?

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয় না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কেন ক্ষতিকর হতে পারে বিস্কুট?

ডা. শর্মার মতে, বাজারে পাওয়া অধিকাংশ বিস্কুটেই পরিশোধিত ময়দা, চিনি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত উপাদান থাকে, যা দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, একটি বা দুটি বিস্কুট খেলেও শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ প্রবেশ করে। এতে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিছু সময় পর রক্তে শর্করা আবার দ্রুত কমে গেলে পুনরায় ক্ষুধা অনুভূত হয় এবং আরও বিস্কুট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছা করে। এভাবেই তৈরি হয় অতিরিক্ত খাওয়ার একটি চক্র।

দীর্ঘমেয়াদে কী সমস্যা হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার এমন ওঠানামা চলতে থাকলে শরীরে নানা ধরনের বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস

  • ওজন বৃদ্ধি

  • পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমা

  • সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করা

  • মনোযোগ কমে যাওয়া বা ‘ব্রেইন ফগ’

কেন বারবার বিস্কুট খেতে ইচ্ছা করে?

ডা. শর্মা জানান, অধিকাংশ আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে। চিনি, চর্বি ও লবণের নির্দিষ্ট সংমিশ্রণ মানুষকে আরও বেশি খেতে উৎসাহিত করে। ফলে একটি বিস্কুট দিয়ে শুরু হলেও অনেক সময় অজান্তেই কয়েকটি বিস্কুট খাওয়া হয়ে যায়।

কী খাওয়া ভালো?

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, অন্তত চার সপ্তাহের জন্য সকালের নাশতা থেকে বিস্কুট বাদ দিয়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।

যেমন—

  • সেদ্ধ ডিম

  • দই

  • পনির বা কটেজ চিজ

  • চিজ

  • বিভিন্ন ধরনের বাদাম

তার মতে, এমন খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অতিরিক্ত ক্ষুধা কমতে পারে, বিকেলের ক্লান্তি হ্রাস পেতে পারে এবং শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতাও উন্নত হতে পারে।

সচেতন থাকুন

চায়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে বিস্কুট খাওয়া মানেই যে ডায়াবেটিস হবে, এমন নয়। তবে প্রতিদিন নিয়মিত অতিরিক্ত বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সকালের নাশতায় সুষম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখাই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

Comment / Reply From