ক্রিয়েটিনিন বাড়লে কোন খাবার খাবেন, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন?
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। সাধারণত কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা কমে গেলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন জমতে শুরু করে। পানিশূন্যতা, কিডনির সংক্রমণ, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এর মাত্রা বাড়তে পারে। তাই ক্রিয়েটিনিন বেশি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
তবে শুধু কোনো একটি খাবার বাদ দিলেই ক্রিয়েটিনিন কমে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কিডনির অবস্থা, রক্তের পটাশিয়াম ও অন্যান্য পরীক্ষার ফল অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন
খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত পরিমাণে ফাইবার রাখা যেতে পারে। ফল, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের শস্য ফাইবারের ভালো উৎস। তবে কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে সব ফল বা সবজি সমান উপযোগী নয়। পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী আপেল, নাশপাতি বা পেঁপের মতো তুলনামূলক কম পটাশিয়ামযুক্ত ফল পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত প্রোটিনে সতর্কতা
কিডনির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে লাল মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। মাংসের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবজি, উপযুক্ত পরিমাণ ডাল বা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে কিডনি রোগীদের জন্য প্রোটিন একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কতটা প্রোটিন দরকার, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
পানি পানেও থাকতে হবে নিয়ম
শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি পানি পান করাও সবসময় নিরাপদ নয়। কিডনির কার্যক্ষমতা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেন।
কমান অতিরিক্ত লবণ
অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, আচার, প্যাকেটজাত খাবার এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দেওয়া ভালো।
সব রোগীর জন্য একই খাবার নিষেধ নয়
কিডনি রোগীদের জন্য আলু, টমেটো, কলা, কমলালেবু, দুধ, ব্রাউন রাইসসহ বিভিন্ন খাবার কখনো কখনো সীমিত করতে বলা হয়। কিন্তু এগুলো সবার জন্য একেবারে নিষিদ্ধ—এমন নয়। রক্তে পটাশিয়াম, ফসফরাস, কিডনির কার্যক্ষমতা ও রোগের পর্যায় অনুযায়ী খাবারের তালিকা বদলে যেতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস ও অতিরিক্ত লাল মাংস এড়িয়ে চলা সাধারণত ভালো অভ্যাস। তবে ব্যক্তিভেদে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপানও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে শুধু খাবার পরিবর্তন করে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ জানা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিজের ইচ্ছায় প্রোটিন, পানি বা কোনো নির্দিষ্ট খাবার পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!